দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের গাজীর বাজার থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ ৬৬ বছরেও পাকা হয়নি। এমনকি সড়কটিতে ইটের সলিংও নেই। বর্ষা মৌসুমে কাদায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ কয়েক হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষার সময় ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে যাওয়ায় পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
১৯৬০ সালে আন্ধারমানিক নদীর তীরে বৃহত্তর ৪ নম্বর মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন গড়ে ওঠে। ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে মিঠাগঞ্জ গ্রামের নামে। ওই গ্রামের গাজীর বাজার থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয়দের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ।
এই সড়ক দিয়ে মিঠাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মিঠাগঞ্জ বড় জামে মসজিদ, গাজীর বাজার ও বাংলা বাজারে যাতায়াত করেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
বর্ষায় সড়কের দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হয় বলে জানান অভিভাবকেরা। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের উপজেলা সদরে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন হাওলাদার বলেন, গাজীর বাজার থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হলে পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। পাশের ইউনিয়ন ও উপজেলা সদরে যাতায়াতও সহজ হবে।
মোটরসাইকেলচালক সবুজ বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। পাকা সড়ক হলে কৃষকেরা দ্রুত পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন।
স্থানীয় ৬৫ বছর বয়সী মো. ইদ্রিস মৃধা বলেন, আমার বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও রাস্তাটিতে একটি ইটের কণাও পড়তে দেখিনি।
সেতারা বেগম বলেন, বর্ষাকালে সড়কে প্রচুর কাদা জমে। এ কারণে ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে।
মরিয়ম বেগম বলেন, বর্ষার সময় গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ রোগী নিয়ে এই পথ পাড়ি দেওয়া খুবই কষ্টকর। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যেতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়।
মিঠাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য এটি এলাকার প্রধান সড়ক। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও কৃষকেরা নিয়মিত সড়কটি ব্যবহার করেন। সড়কটি পাকা হলে বর্ষায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এটি একটি ইউনিয়ন সড়ক, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ কিলোমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী সড়কের উচ্চতা, প্রস্থসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ঠিক থাকলে পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।
যে আই